শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
দিনাজপুর থেকে প্রকাশিত সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক খবর একদিন পএিকার জন্য খানসামা, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও চিরিরবন্দরের জন্য উপজেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। মেইল : khaborekdin2012@gmail.com। মোবাইল : 01714910779
সর্বশেষঃ
দিনাজপুর শহরসহ জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় ৭ হাজার মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে ঝড়ে উড়ে গেল প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘরের চাল ফুলবাড়ীতে সড়ক দূর্ঘটনায় চালকসহ আহত ১০ যাত্রী ফুলবাড়ীতে আনসারদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ বীরগঞ্জে বজ্রপাতে এক নারী নিহত দিনাজপুরে সেন্ট ফিলিপস্ এলামনাই ফোরাম এর উদ্যোগে ঈদ উপহার প্রদান পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির শুভেচ্ছা দিনাজপুরে বিভিন্ন আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত ত্যাগের মধ্যে যে আনন্দ আছে ভোগের মধ্যে তা নেই-হুইপ ইকবালুর রহিম বাংলাদেশের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করা স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রয়াস- এমপি গোপাল

নবাবগঞ্জে প্রভাবশালীদের দখলে বন বিভাগের জমি

দিনাজপুরের চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ-এর অধীনে নবাবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর বিট এলাকায় কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না বনের জমি দখল।বন বিভাগের তদারকির অভাবে বা গায়ের জোরে এসব জমি দখল করে নেয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

একই সঙ্গে সংরক্ষিত ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত এ বনটিতে ঠেকানো যায়নি দখলদারদের উৎপাত। হরিপুর বিটে বনের জমি দখল করে কৃষিকাজের পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে বসতবাড়িও। জমি দখল করে গড়ে উঠেছে আস্ত একটি গ্রাম।

এই এলাকায় বন বিভাগের সিংহভাগ জমি প্রায় ২ হাজার ৬ শত একর এলাকার প্রভাবশালী মহল কর্তৃক বে-দখল হয়। এতে বনায়ন ক্রমশ কমে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। দখল করা জমি উদ্ধারের জন্য বন বিভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও সঠিকভাবে তা উদ্ধার করতে পারছে না। বন বিভাগের জমি দখল করে নিয়ে অনেকে এখন লাখপতি। প্রতি বছরই বন বিভাগের বে-দখল হওয়া জমি ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়।

দখলকারীরা কালো টাকার মালিক হওয়ায় একই ব্যক্তির নামে বে-নামে হরিপুর বিটের বিভিন্ন মৌজায় বনায়ন সৃষ্টির উপযোগী জমি চাষাবাদ করে দাপটের সাথে দিন যাপন করছে। যখনই সরকারের বন বিভাগের তফসিল বর্ণিত জমি দখলকারীদের কবল থেকে উদ্ধারে নেয়া হয় পদক্ষেপ, তখনই প্রভাবশালী দখলকারী সিন্ডিকেট বাহিনীর লোকজনেরা প্রশাসনকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করে। অনেকেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে দখলে নিয়েছে বন বিভাগের জমি।
সাম্প্রতিক সময়ে বন বিভাগের প্রায় ১২ একর জমি নিজেদের বলে দাবি করেছে প্রভাবশালী ফারুক ও তার লোকজন এবং আবুল কালাম মুন্সি। তারা দুইজনই পৃথকভাবে দাবি করছে এই জমির মালিক তারা আবার অন্যদিকে বন বিভাগ দাবি করছে এই জমি তাদের। এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিভ্রান্তি।

আইনি প্রতিকারের জন্য অপেক্ষায় না থেকে বনের জমি দখল করে নিচ্ছে এই গোষ্ঠী। কয়েক বছর ধরে ফারুক ও কামাল মুন্সি বনবিভাগের প্রায় ১২ একর জমি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। শুধু দখলি নয় টাকার বিনিময়ে বন বিভাগের জমির পজিশন বিক্রি করে দিয়েছে অনেকের কাছে । যেখানে অসংখ্য পরিবার বসবাস করছে এই বন বিভাগের জমিতে।
তবে বন বিভাগের জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক বলেন, বরাদ্দকৃত জায়গা আমরা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছি। এ লক্ষ্যে উচ্চ আদালতে মামলা করেছি।

এ বিষয়ে সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু ব্যাক্তি জানান, বনের তিন ভাগের দুই ভাগ জমি এখন প্রভাবশালীদের দখলে। অচিরেই অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ করা না হলে একদিন এই এলাকার বন বিভাগ উজাড় হয়ে যাবে।বন বিভাগ জানিয়েছে, কাগজে-কলমে চরকাই রেঞ্জ বন বিভাগের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৬ শত ২৫ একর। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৬ শত একরই বেদখল হয়ে আছে। বেদখল হওয়া জমির ভূমি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটি দীর্ঘ ২০-২২ বছর ধরে চলছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সামাজিক বন বিভাগ দিনাজপুর আব্দুর রহমান বলেন,আমরা প্রায়ই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমি উদ্ধার করি। সাম্প্রতিক সময়ে বনের বেশকিছু জমি আমরা উদ্ধার করেছি।তিনি জানান, হরিপুর বিটের আওতায় বন বিভাগের প্রায় ১২ একর বেদখল জমি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে এবং এই মামলা পরিচালনা করছেন বর্তমান ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বির মেয়ে এডভোকেট ফাহিমা রাব্বি। দখলকারী এই জমির কাগজ বানাই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছেন। আমরা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে দখল হওয়া জমি গুলো উদ্ধারে যায় কিন্তু ডেপুটি স্পিকারের মেয়ে নিষেধ করায় আমরা আর কিছু করতে পারিনি।

এ বিষয়ে হরিপুর বিট কর্মকর্তা সামসুল আলম মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।এ বিষয়ে চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ-এর কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বেদখল জমি উদ্ধার করার জন্য প্রচেষ্টা চলছে এবং আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যহত থাকবে ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন