1. admin@dailykhaborekdin.com : দৈনিক খবর একদিন :
  2. khaborekdin2012@gmail.com : Khabor Ekdin : Khabor Ekdin
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তিঃ
চেনা মুখ অচেনা মানুষ ### সুবল সেন, দিনাজপুরের ব্যানার শিল্প ও শিল্পীকথা হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির সহধর্মিনীর বড় ভাই ড. গোলাম ফারুকের দাফন সম্পন্ন বিরামপুরে স্বেচ্ছা সেবক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত করোনা প্রতিরোধে গ্রাম পর্যায়ে মনিটরিং বাড়াতে হবে — হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ফুলবাড়ীতে দীর্ঘদিনের ৫ হাজার বিঘা জমির জলাবদ্ধতা নিরসন নির্মাণকৃত ইউড্রেনে পানি প্রবাহের উদ্বোধন ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ ও মাস্ক বিতরণ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির হাবিপ্রবিতে বিদেশী শিক্ষার্থীদের ঈদ উৎযাপন আজকের বিষয় পর্ব ৬২#শিশুর করোনা (Covid 19), করণীয় ও চিকিৎসা। ঘোড়াঘাটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর এককালীন চেক বিতরণ

করোনায় আক্রান্ত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন শিশু : ইউনিসেফ

দৈ‌নিক খবর একদিন ডেস্ক
  • সর্বশেষ সংবাদ রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৬০৬ বার প‌ঠিত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন শিশু ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মাঝে হালকা উপসর্গ দেখা গেলেও সংক্রমণের হার বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিশু ও তরুণদের পুরো একটি প্রজন্মের শিক্ষা, পুষ্টি ও সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর প্রভাব জীবন বদলে দিতে পারে।

বিশ্ব শিশু দিবসকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘অ্যাভারটিং এ লস্ট কোভিড জেনারেশন’ শীর্ষক ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারি অনিয়ন্ত্রিতভাবে দ্বিতীয় বছরের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং এ প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে ইউনিসেফ শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারির এ পুরো সময় জুড়ে অব্যাহতভাবে একটি ধারণা চলে আসছে যে, এতে শিশুদের তেমন ক্ষতি হয় না। এটা মোটেও সত্য নয়। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে এ রোগের বিস্তার ঘটাতে পারে। আর এটা মহামারিজনিত সমস্যার একটি ছোট অংশ। গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রাপ্তিতে বিঘ্ন এবং দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি শিশুদের ক্ষেত্রে এর চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এ সংকট যত দীর্ঘ হবে, শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর প্রভাব তত গভীর হবে। পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, করোনা আক্রান্ত প্রতি ৯ জনের মধ্যে ১ জন ২০ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরী, যা এই দেশগুলোতে মোট আক্রান্ত ২ কোটি ৫৭ লাখ মানুষের ১১ শতাংশ এই সংকট কীভাবে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের জীবনকে প্রভাবিত করে এবং এটি মোকাবিলার উপায় কী তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সংক্রমণ, মৃত্যু ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার আরও নির্ভরযোগ্য বয়সভিত্তিক তথ্য প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু শিশুরা একে অন্যের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে এবং বেশি বয়সী মানুষের মাঝেও এক্ষেত্রে জোরালো প্রমাণ রয়েছে যে, প্রাথমিক সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে স্কুল বন্ধ রাখলে যে ক্ষতি হয়, তার চেয়ে বরং বেশি সুবিধা পাওয়া যায় স্কুল খোলা রাখলে। কমিউনিটিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে স্কুলগুলোই একমাত্র চালিকা শক্তি নয় এবং শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্কুলের বাইরে থেকেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি বলেন, মহামারির ব্যাপকতায় বিশ্বের ১৯২টি দেশ স্কুল বন্ধ করে দেয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৩ শতাংশ দেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে স্কুলগুলো পুনরায় চালু করে। একটি নির্ধারিত তারিখ লক্ষ্য করে নিরাপদে স্কুলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য পরিচালনাগত পরিকল্পনার প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা প্রাপ্তিতে কোভিডজনিত বাধা শিশুদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। ১৪০টি দেশজুড়ে ইউনিসেফ পরিচালিত জরিপের তথ্য ব্যবহার করে এতে বলা হয়েছে-

১. যেসব দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে সেগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নিয়মিত টিকাদান, হাসপাতালে বহির্বিভাগে শৈশবকালীন সংক্রামক রোগের চিকিৎসা এবং মাতৃস্বাস্থ্য সেবার মতো স্বাস্থ্যসেবাগুলো অন্তত ১০ শতাংশ কমে গেছে। এর বড় কারণ সংক্রমিত হওয়ারআশঙ্কা।

২. ১৩৫টি দেশে নারী ও শিশুদের পুষ্টি সেবার আওতা ৪০ শতাংশ কমে গেছে। ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ২৬ কোটি ৫০ লাখ শিশু স্কুলের খাবার-বঞ্চিত ছিল। ৫ বছরের কম বয়সী ২৫ কোটির বেশি শিশু ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট কর্মসূচির জীবন রক্ষামূলক সুবিধা গ্রহণ করা থেকে বাদ পড়তে পারে।

৩. ৬৫টি দেশ জানিয়েছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সমাজ কর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন কমেছে।

প্রতিবেদনে আরও যেসব আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে-

১. ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৩০টি দেশজুড়ে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫৭ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ৩৩ শতাংশ।

২. আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান অপুষ্টির সমস্যাসহ আনুমানিক ২০ লাখ অতিরিক্ত শিশু মৃত্যু হতে পারে এবং ২ লাখ অতিরিক্ত মৃত শিশুর জন্ম হতে পারে।

৩. ২০২০ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ৬০ থেকে ৭০ লাখ শিশু উচ্চতার তুলনায় পাতলা বা ওজন কম বা তীব্র অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগবে, যা ১৪ শতাংশ বেশি এবং এ কারণে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১০ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হবে, যার বেশিরভাগই ঘটবে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায়।

৪. বিশ্বব্যাপী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পুষ্টি, স্যানিটেশন বা খাবার পানি প্রাপ্তির সুবিধা ছাড়াই বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসরত শিশুর সংখ্যা ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ বা অতিরিক্ত ১৫ কোটি বাড়বে।

এই সংকট মোকাবিলায় ইউনিসেফ সরকার ও অংশীদারকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে-

১. ডিজিটাল বিভাজন বন্ধ করাসহ সব শিশুর জন্য শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার।

২. পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবাসমূহ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে এবং প্রতিটি শিশুর জন্য টিকা সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে।

৩. শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীকে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং সুরক্ষা দিতে এবং শৈশবকালে নির্যাতন, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও অবহেলার অবসান ঘটানোর।

৪. নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা সেবা প্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর এবং পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার।

৫. শিশু দারিদ্র্যের উত্থানকে উল্টে দিতে এবং সবার জন্য অংশগ্রহণমূলক ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার।

৬. সংঘাত, দুর্যোগ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে বসবাস করা শিশু ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষা ও সহায়তা করার জন্য প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করার।

হেনরিয়েটা ফোর বলেন, এবারের বিশ্ব শিশু দিবসে আমরা শিশুদের কথা শুনতে এবং তাদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে সরকার, অংশীদার ও বেসরকারি খাতের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সবাই যেমন নতুন ভবিষ্যতের কথা ভাবছি এবং মহামারি পরবর্তী পৃথিবীর অপেক্ষায় আছি, এক্ষেত্রে অবশ্যই শিশুদের কথা আগে ভাবতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সকল সংবাদ
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )