দিনাজপুরে যুগান্তরের ২২ বছরে পদার্পন উপলক্ষে ব্যাতিক্রম ধর্মী বর্ষপুর্তি উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার :
জীবন সায়াহ্নে এসে যাদের পাশে এখন কোন স্বজন নেই, শেষ জীবনে পৃথিবীতে যাদের এখন একমাত্র আশ্রয়স্থল বৃদ্ধাশ্রম, দিনাজপুরে সেইসব স্বজনহীনদের নিয়ে যুগান্তরের বর্ষপুর্তি উদযাপন করেছে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ। স্বজনহীন এসব মানুষকে সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কেটে, সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভা, স্বজনহীনদের হাতে উপহার তুলে দেয়া এবং তাদের আপ্যায়িত করিয়ে উদযাপন করা হয় কঠিন সত্যের নির্ভয় প্রকাশমাধ্যম দেশের জনপ্রিয় এই সংবাদপত্রটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
জীবনের আনন্দময় মুহুর্তগুলিতে স্বজনরা পাশে থাকলেও জীবন সায়াহ্নে এসে স্বজনহীন এসব মানুষগুলোকে নিয়ে এমন আয়োজন করায় আনন্দে উদ্বেলিত তারা। এসময় তারা প্রাণভরে দোয়া করেন যুগান্তরের প্রতি এবং যুগান্তরের স্বপ্নসারথী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের প্রতি।
যুগান্তরের ২২ বছর পদার্পণ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দিনাজপুর শহরের রাজবাটীস্থ “শান্তিনিবাস” নামে বৃদ্ধাশ্রমে আয়োজন করা হয় এসব অনুষ্ঠানের। সেখানে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, দিনাজপুরের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক নুরুল মতিন সৈকত। বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ কুমার বক্সী বাচ্চু, সহ-সভাপতি কংকন কর্মকার, সাধারন সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, যুগান্তরের বীরগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক, বিরামপুর প্রতিনিধি মশিহুর রহমান, বিরল প্রতিনিধি আতিউর রহমান আতিক, পার্বতীপুর প্রতিনিধি মুসলিমুর রহমান, সাংবাদিক কৌশিক বোস, বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রিত হুমায়ুন সাইফুল কবীর, আলহাজ্ব মোছাঃ মাকসুদা হেনা, রশিদা বেগম প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, যুগান্তরের দিনাজপুর প্রতিনিধি একরাম তালুকদার।
আলোচনাশেষে যুগান্তরের ২২ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটেন বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত সড়ক ও জনপত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন সাইফুল বারীসহ অন্যান্য আশ্রিতরা এবং দিনাজপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এরপর বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত প্রত্যেক সদস্যকে যুগান্তরের পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়। শেষে যুগান্তরের স্বপ্ন সারথী মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের রূহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয় এবং বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত ও অন্যান্য অতিথিদের আপ্যায়িত করা হয়।
জীবন সায়াহ্নে এসে যাদের পাশে কোন স্বজন নেই, যাদের শেষ ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম, তাদের নিয়ে এমন আয়োজন করায় খুশী ও আনন্দে উদ্বেলিত বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিতরা।
এসময় বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত আলহাজ্ব মাকসুদা বেগম জানান, জীবন-যৌবন কেটেছে স্বজনদের সাথে, কিন্তু যেই বয়সে স্বজনদের পাশে থাকা প্রয়োজন-সেই বয়সে আমাদের পাশে কোন স্বজন নেই এবং একমাত্র আশ্রয় এই বৃদ্ধাশ্রম। এখন এখানে আমাদের কেউ আর খবর নেন না। এই অবস্থায় যুগান্তর আমাদের খবর নিতে এসেছে এবং আমাদের নিয়ে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে-এতে খুশী আমরা। যুগান্তর যাতে এমনভাবেই আমাদের পাশে থাকে-সেই প্রত্যাশা করছি। এসময় যুগান্তরের প্রতি প্রাণভরে দোয়া ও আশীর্বাদ করেন বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া এই বৃদ্ধা।
শুধু মাকসুদা বেগমই নয় বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত স্বজনহীন প্রত্যেক বয়োবৃদ্ধ সদস্যই এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এসময় তারা যুগান্তরের স্বপ্ন সারথী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন। ##

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন