শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
দিনাজপুর থেকে প্রকাশিত সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক খবর একদিন পএিকার জন্য খানসামা, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও চিরিরবন্দরের জন্য উপজেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। মেইল : khaborekdin2012@gmail.com। মোবাইল : 01714910779
সর্বশেষঃ
দিনাজপুর শহরসহ জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় ৭ হাজার মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে ঝড়ে উড়ে গেল প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘরের চাল ফুলবাড়ীতে সড়ক দূর্ঘটনায় চালকসহ আহত ১০ যাত্রী ফুলবাড়ীতে আনসারদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ বীরগঞ্জে বজ্রপাতে এক নারী নিহত দিনাজপুরে সেন্ট ফিলিপস্ এলামনাই ফোরাম এর উদ্যোগে ঈদ উপহার প্রদান পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির শুভেচ্ছা দিনাজপুরে বিভিন্ন আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত ত্যাগের মধ্যে যে আনন্দ আছে ভোগের মধ্যে তা নেই-হুইপ ইকবালুর রহিম বাংলাদেশের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করা স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রয়াস- এমপি গোপাল

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে ২ জন পরিচালকের যোগদান

ষ্টাফরিপোটারঃ নশিপুর,দিনাজপুরের নব সৃষ্ট বাংলাদেশ গম ও ভূট্টা গবেষনা ইনস্টিটিউটের ২ শাখায় ২ জন বিজ্ঞানী পরিচালক হিসাবে গত ০৩ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ে অফিস আদেশ বলে ইনস্টিটিউটের পরিকল্পনা, প্রশিক্ষন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর শাখায় বিশিষ্ট ভূট্টা প্রজনন বিদ ড.মো. আমিরুজ্জামান এবং প্রশাসন ও অর্থ শাখায় কৃষিতত্ত¡বিদ ড. মো. আবুজামান সরকার তাঁদের দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে পরিচালক পদে যোগদান করেন। ২০১৭ সালে ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠান পর প্রথম বারের মতো এ ২জন পরিচালককে নিয়োগ দেওযা হল। এর পূর্বে ড.মো. আমিরুজ্জামান সরকার বাংলাদেশ গম ও ভূট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন । জানা গেছে দেশে বর্তমানে জেষ্ঠ ভূট্টা বিদদের মধ্যে ড আমিরুজ্জামান অন্যতম।
চাকুরী জীবনে তিনি ১৯৮৯ সালে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (প্লান্টব্রিডিং) হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এ যোগ দেন। বারিতে সুদীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর চাকুরী জীবনে তিনি ভুট্টা,বার্লি,সরগম, কাউন প্রভৃতি ফসলের ২৮টি উচ্চ ফলন শীল উন্নত জাত উদ্ভাবনের গবেষণার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। দেশে ভুট্টার হাইব্রিড জাত উন্নয়নের গবেষণায় তিনিই প্রথম প্রচলিত ধারার পরিবর্তে নতুন ধারার প্রয়োগ ঘটান। হাইব্রিড ভুট্টার জাত উদ্ভাবনে প্যরেন্টলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা বিদেশ থেকেই আনা হতো। বিদেশ থেকে আনা প্যারেন্টলাইন দিয়ে তৈরী হাইব্রিড দেশের চাহিদা মত হচ্ছিলনা। তাই নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেশে ইউত্তমইন ব্রিডলাইন তৈরী করে স্থানীয় চাহিদানুযায়ী উচ্চফলনশীল হাইব্রিড ভুট্টা তৈরী গবেষণা কাজে তিনিই পথিকৃত। তার উদ্ভাবিত ইনব্রিডলাইন সমূহ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে ভুট্টার প্রধান প্রজননবিদ হিসেবে সম্প্রতি ৫টি উন্নত হাইব্রিড ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করেছন যার মধ্যে ২টি খরা সহনশীল, ১টি খাটো আকৃতির হেলে পড়া সহনশীল, ১টি খাটো ও লবণাক্ততা সহনশীল জাত। এছাড়াও ২০২০ সালেও তিনি প্রধান গবেষক হিসেবে ২টি উচ্চ ফলশীল হাইব্রিড ভুট্টারজাত উদ্ভাবন করেন যা ডাবিøউ এমআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-১ এবং উচ্চ মূল্যেও ফসল হিসেবে বেবীকর্ণের প্রথম দেশীয় হাইব্রিড ডবিøউ এমআরআই হাইব্রিড বেবীকর্ণ-১ নামে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সম্প্রতিজাত হিসেবে অবমুক্ত করা হয়েছে। তার উদ্ভাবিত খাটো আকৃতির ঝড়-বাতাস সহনশীল ও মধ্যম মাত্রার লবণাক্ততা সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীলজাত বারিহাইব্রিড ভুট্টা-১৬ (বিএইচএম-১৬) এর হাইব্রিড বীজ দেশেই উৎপাদন করে স্বল্পমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে বিএডিসি। এতে করে একদিকে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার ও সাশ্রয় হচ্ছে।
এছাড়াও জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ভুট্টার নতুন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে তিনি দেশেই অনেক মূল্যবান প্যারেন্টলাইনও তৈরী করেছেন, যা বিভিন্ন প্রতিকূলতা সহনশীল হাইব্রিড ভুট্টা উদ্ভাবনের গবেষণায় এখন ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশে ভুট্টা বর্তমানে কৃষকদের কাছে একটি লাভজনক দানাদার ফসল। দেশে ক্রমবর্ধমান পোল্ট্রি শিল্প, মাছ ও গবাদী পশুর খাবার হিসেবে সিংহ ভাগ ভুট্টা ব্যবহৃত হচ্ছে। দিন দিন ভুট্টার আবাদ ও উৎপাদন বাড়ছে। দিনাজপুর অঞ্চল দেশের অন্যতম ভুট্টা আবাদকৃত এলাকা। এ অঞ্চলে ভুট্টা আবাদ ক্রমেই বাড়ছে। এ উৎপাদন ধারা বজায় রাখতে দরকার লাগসই প্রযুক্তি সহ উচ্চ ফলন শীল নতুন নতুন জাত, যা আবাদ করে উচ্চ ফলন পেয়ে কৃষকেরা লাভবান হবেন। তাই ভুট্টার উপরে আধুনিক লাগসই গবেষণা আরোও জোরদার করে নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করা দরকার।
ড. জামানের গম ও ভুট্ট গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরিচালক হিসেবে যোগদান দিনাজপুরের এ নবীন প্রতিষ্ঠানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের গবেষণা কাজে গতি বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা যায়। ড. জামান তার পিএইচডি গবেষণায় ও গুণগত প্রোটিন সমৃদ্ধ ভুট্টার জাত উদ্ভাবনের উপর গবেষণা করেন। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে ড. জামান এর ৫০টিরও অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
ড. মো: আবুজামান সরকারঃ
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হরিশ্বর গ্রামে ১৯৬৫ সালে ড. মো: আব ুজামান সরকার এক সভ্রান্ত মুসলিম কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৮০ সালে এসএসসি এবং উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত ও প্রাচীন সরকারি কারমাইকেল কলেজ হতে ১৯৮২ সালে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপরে তিনি ময়মন সিংহস্থ বাংলদেশ কৃষি বিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি হয়ে ১৯৮৬ সালের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং বিএসসি এজি ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে তিনি গাজীপুরের সালনায় স্নাতকোত্তর কৃষিশিক্ষা ইনস্টিটিউটের (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) কৃষিতত্ত¡ বিভাগ থেকে ১৯৯৫ সালে এমএস ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি প্রতিটি পরীক্ষায় ১ম বিভাগ বা ১ম শ্রেণী অর্জন করেন। মেধার ভিত্তিতে সরকারি ভাবে মনোনীত হয়ে ড. জামান সরকার ১৯৯৭ সালে জাপান সরকারের মোন বুশো বৃত্তি নিয়ে কৃষি বিষয়ে পড়াশুনা করার জন্য জাপান গমন করেন এবং সুপার হাইব্রিড ধানের উপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করে ২০০২ সালে দেশে ফিরে আসেন।
ড. জামান সরকার ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন এবং ২০০২ সালে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে তদানিতœন গম গবেষণা কেন্দ্রে যোগদান করেন। তিনি ২০১২ এবং ২০১৯ সালে যথাক্রমে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে পদোন্নতি পান। তিনি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, রাজবাড়ি, দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন এবং আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, জামালপুরে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে গবেষণা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গবেষণা করছেন। তিনি শূন্য চাষে গম ও মুগডাল আবাদের প্রযুক্তি এবং গম সহ ৪টি ফসল সম্বলিত লাভজনক ২টি ফসল-ধারার উদ্ভাবক। এছাড়া তিনি বেশকিছু গমের জাত সহ অন্যান্য প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি দেশী এবং আর্ন্তজাতিক সাময়িকীতে ৪৫ টি বিজ্ঞান বিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া তিনি কয়েকটি পুস্তক রচনার সাথে জড়িত। তিনি বিভিন্ন দেশে আয়োজিত সম্মেলনে যোগদান করে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।
দুই জন বিজ্ঞানী নতুন পদে যোগ দেয়ায় প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে মহাপরিচালক এবং অন্যান্য বিজ্ঞানী ও কর্মচারীরা মনে করেন।#

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন