শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
দিনাজপুর থেকে প্রকাশিত সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক খবর একদিন পএিকার জন্য খানসামা, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও চিরিরবন্দরের জন্য উপজেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। মেইল : khaborekdin2012@gmail.com। মোবাইল : 01714910779
সর্বশেষঃ
দিনাজপুর শহরসহ জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় ৭ হাজার মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে ঝড়ে উড়ে গেল প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘরের চাল ফুলবাড়ীতে সড়ক দূর্ঘটনায় চালকসহ আহত ১০ যাত্রী ফুলবাড়ীতে আনসারদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ বীরগঞ্জে বজ্রপাতে এক নারী নিহত দিনাজপুরে সেন্ট ফিলিপস্ এলামনাই ফোরাম এর উদ্যোগে ঈদ উপহার প্রদান পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির শুভেচ্ছা দিনাজপুরে বিভিন্ন আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত ত্যাগের মধ্যে যে আনন্দ আছে ভোগের মধ্যে তা নেই-হুইপ ইকবালুর রহিম বাংলাদেশের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করা স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রয়াস- এমপি গোপাল

দিনাজপুরের লিচু বাগানগুলো এখন লিচুর গুটিতে ছেয়ে গেছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে-ফলের সমারোহ। চারিদিকে মৌ মৌ গন্ধ। কোনো গাছে মুকুল থাকলেও বেশীরভাগ গাছেই ফলন এসে গেছে। এই ফলন দেখে লিচু চাষি এবং যারা বাগান কিনেছেন তারা খুশি।
দিনাজপুরের বিভিন্ন বাগানে, প্রতিটি বাড়ির বসতভিটায় বা আঙিনায় লিচু গাছে থোকায় থোকায় লিচুর গুটি ঝুলছে। চাষিরা বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে গতবারের চেয়ে ফলন কম হবে বলে জানান লিচু চাষিরা। করোনার সময়ে বাজারজাতকরণ নিয়েও চিন্তিত চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
দিনাজপুরের লিচু মানে মিষ্টি ও রসালো স্বাদ আর বৈশিষ্ট নিয়ে বিভিন্ন জাতের লিচুর মধ্যে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি আর দেশী লিচু গুটি ফলনে নুয়ে পড়েছে এখন গাছের ডালপালা।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, এবার ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হবে। তবে বেসরকারি হিসাবে লিচু উৎপাদন হবে এর চার গুণ বেশি। যার মূল্য হাজার কোটি টাকা।
সদর উপজেলার মাসিমপুর গ্রামের লিচু চাষি আলী মোহাম্মদ জানান, লিচু চাষের এলাকা দিনাজপুরে লিচুর ফলন ভাল হয়েছে। দিনাজপুরে ব্যাপক লিচু গাছে মুকুল এসেছিল। লিচু চাষে চৈত্র মৌসুমে পর্যাপ্ত সেচের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চৈত্রের খরতাপের কারণে চাষিরা লিচু বাগানে পানির সেচ দিতে পারে নাই। আবার দেখা গেছে যে বছর ভাল ফলন হয়, পরের বছর তা ফলন কমে যায়। আবহাওয়ার কারণে এবারে মুকুল বেশী এলেও ফলন কম এসেছে। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও রোগ বালাই থেকে মুক্ত করতে চাষিরা লিচু গাছে বালইনাশক ছিটাচ্ছেন। অনেকে লিচু গাছের আগাছা মুক্ত করছেন।
পুলহাট-মাসিমপুরের আসাদুজ্জামান লিটন জানান, দিনাজপুরের দক্ষিণ কোতয়ালী ও মাসিমপুরসহ আশেপাশে কিছু এলাকায় ভিটা, জমি, বশতবাড়ী এবং ডাঙ্গা জমিতে লাগানো গাছই ছিল লিচু আবাদ ছিল সীমিত। কিন্তু এখন এর বিস্তৃতা ব্যাপক।
বিরলের সফিকুল ইসলাম জানান, একটি বড় গাছে ২০ থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত এবং সবচেয়ে ছোট গাছে ১ থেকে দেড় হাজার লিচু পাওয়া যায়। এখন লিচুর গুটি এসেছে এক মাসের মধ্যে পাকা টসটসে লিচু বাজারে উঠবে।
দিনাজপুর জেলায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় নিয়ে প্রায় আড়াই হাজার লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার গাছ রয়েছে। বাগান ছাড়াও কিছু সংখ্যক বাড়ি, বাড়ি সংলগ্ন ভিটা জমিতে ২/৪টি করে লিচু গাছ রয়েছে। এই সব গাছে প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ লিচুর ফলন পাওয়া সম্ভব বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলনও ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করে। এবার লিচুর বাজার কালিতলা নিউমার্কেট ও দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে দুই জায়গায় হবে। যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা করতে পারেন। লিচু উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ থেকে শুরু করে এ সেক্টরের সঙ্গে জড়িত সবার সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে এবার লিচু চাষিরা লোকসানের মধ্যে না পড়েন। চলতি বছর দিনাজপুর জেলায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন