শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
দিনাজপুর থেকে প্রকাশিত সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক খবর একদিন পএিকার জন্য খানসামা, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও চিরিরবন্দরের জন্য উপজেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। মেইল : khaborekdin2012@gmail.com। মোবাইল : 01714910779
সর্বশেষঃ
ফুলবাড়ীতে ঝড়ে উড়ে গেল প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘরের চাল ফুলবাড়ীতে সড়ক দূর্ঘটনায় চালকসহ আহত ১০ যাত্রী ফুলবাড়ীতে আনসারদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ বীরগঞ্জে বজ্রপাতে এক নারী নিহত দিনাজপুরে সেন্ট ফিলিপস্ এলামনাই ফোরাম এর উদ্যোগে ঈদ উপহার প্রদান পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির শুভেচ্ছা দিনাজপুরে বিভিন্ন আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত ত্যাগের মধ্যে যে আনন্দ আছে ভোগের মধ্যে তা নেই-হুইপ ইকবালুর রহিম বাংলাদেশের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করা স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রয়াস- এমপি গোপাল দিনাজপুর সরকারী মহিলা কলেজের উদ্যোগে অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান

দূর-দূরান্ত থেকে ৪ ভাবীর হোটেলে ছুটে আসছেন ভোজন রসিক মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোজন রশিকদের সাশ্রয়ী মূল্যে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করে সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে বোচাগঞ্জ উপজেলার ৪ ভাবীর হোটেল। ৪ হোটেলের চারজন নারী ব্যবসায়ী। পাশপাশি ৪টি হোটেল থাকলেও কারোই যেন কমতি নেই ক্রেতার।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইল ইউপির সীমান্তবর্তী পরমেশ্বরপুর গ্রামের রাণীর ঘাট মোড়ে তাদের হোটেল। এখানে চারটি খাবার হোটেলসহ ১২টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারযোগে খাবার খেতে আসেন এখানকার হোটেলগুলোতে। এখানে দেশীয় হাঁসের মাংস বেশ সস্তায় পাওয়ার কারণে এখানকার জনপ্রিয়তা বেশ তুঙ্গে। খাবার খেতে আসা সবাই তাদের ভাবি বলে সম্বোধন করেন। এজন্যই রাণীর ঘাট মোড় হয়ে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে ‘ভাবির মোড়’।
জেলার বোঁচাগঞ্জ এবং বিরল উপজেলার শেষ অংশে টাঙ্গন নদীর পূর্বদিকে ভাবির মোড়ের অবস্থান। পূর্ব পশ্চিম রাস্তার দুই ধারে দুটি করে মোট চারটি ভাতের হোটেল। রাস্তার উত্তর পাশের দুই ভাইয়ের স্ত্রী এবং দক্ষিণ পাশে দুই বোনের ভাতের হোটেল। হোটেলগুলোর নাম ভাবি হোটেল-১, ভাবি হোটেল-২, ভাবি হোটেল-৩ এবং বেলি ভাবির হোটেল।
বেলি ভাবির হোটেলের ভেতরে দেয়ালে বিভিন্ন ফুলের নকশাও আঁকা হয়েছে। প্রতিটি হোটেলের টেবিলে রাখা গামলা ভর্তি হাঁসের মাংস। নিরিবিলি পরিবেশে খেতে আসছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউবা পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন। খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে টাকা নেওয়া পর্যন্ত প্রায় সব কাজই করছেন ভাবিরাই।
প্রতিটি খাবার হোটেলে গড়ে ১৫-২০টি দেশি হাঁস রান্না করা হয়। হাঁসের মাংসের সাথে থাকে নদীর ছোট মাছের চটচটি ও শুকনো মরিচে করা মাছ ভর্তা, আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা ও শাকভাজি। ৫০-৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয় হাঁসের মাংসের প্রতি প্লেট। ভর্তা ১০ টাকা, শাক ১০ টাকা আর মাছ চটচটি ৩০-৪০ টাকা এবং ভাত ১০ টাকা।
হোটেল ব্যবসায়ী তাসলিমার তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। দোকান সংলগ্ন বাড়ি করেছেন। হোটেল করেই তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।
তাসলিমা আক্তার বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগের শুষ্ক মৌসুমে নদী থেকে ট্রাকে করে বালু তোলা হত। তখন এলাকাটিতে (রাণীর ঘাট) কোনো বসতি ছিল না। সেই সময় নদী থেকে দিনে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ট্রাকে বালু তোলা হতো। বালু তোলার শ্রমিকদের জন্য তখন কাজের ফাঁকে একটু চা-নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। ওই ঘাটের পাশেই পাঁচতারা গ্রামের বাসিন্দা জালালউদ্দিন। বালু তোলা শ্রমিকদের অনুরোধে সেখানে ডাল-ভাত-ডিম দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সেই থেকে ধীরে ধীরে রাণীর ঘাট নাম বদলে হয়েছে ভাবির মোড়।
হোটেল ব্যবসায়ী মাসতারা বেগম বলেন, শুরুর দিকে একজনের ব্যবসার উন্নতি দেখে ধীরে ধীরে আরো তিনজন এখানে হাঁসের মাংস ও ভাত বিক্রি শুরু করেন। হোটেল ব্যবসায়ী বেলি বেগম বলেন, সকাল থেকে শুরু করে অনেক রাত অবধি দোকান খোলা থাকে। তবে শুক্রবার বেশি ভিড় থাকে।
স্থানীয়রা জানান, একদিকে দেশি হাসের মাংসের মুখরোচক খাবার। অন্যদিকে, টাঙ্গন নদীর উপরে রাবার ড্যামের। মূলত এই দুই কারণেই কয়েকবছর ধরে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড়।
ছাতইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, ভাবির হোটেলে হাঁসের মাংসের রান্নার কারণে এলাকাটির নাম ভাবির মোড় হিসেবে মুখে মুখে চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে। এখন রাণীর ঘাট পরমেশ্বরপুর নাম বদলে ভাবির মোড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই বলে দিতে পারে ভাবির মোড় যাওয়ার রাস্তা। এখানে ব্যবসা পরিচালনা করেন জালাল উদ্দিনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (৪০), জামাল উদ্দিনের স্ত্রী মাসতারা বেগম (৪৫), হুচেন আলীর স্ত্রী বেলি আক্তার (৪০) ও নাজমুল হকের স্ত্রী মেরিনা পারভীন (৩৭)।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন