মুজিব শতবার্ষিকীতে বিরামপুর রেলষ্টেশনে আধুনিয়কতার ছোয়া

বিরামপুর সংবাদদাতা ॥ জেলার সীমান্তবর্তী ও দক্ষিণের ৪ উপজেলার বাণিজ্যিক ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিরামপুর একটি অগ্রসরগামী উপজেলা।
পার্শ্ববর্তী হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় রেল যোগাযোগ না থাকায় এ ২টি উপজেলার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবীসহ কৃষকের উৎপাদিত ফসল পরিবহনের জন্য বিরামপুর রেলষ্টেশনের উপর নির্ভরশীল। এ দিকে দেশের ২য় স্থলবন্দর সীমান্তবর্তী হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় ২-১টি ট্রেন ছাড়া বাকিগুলোর কোন বিরতি নেই। তাই ঐ উপজেলার সর্বসাধারণকে বিরামপুরে রেলষ্টেশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে হয়। বিরামপুর রেলষ্টেশন মাষ্টার মিজানুর রহমান বলেন, বিরামপুর রেলষ্টেশনটি ২য় শ্রেণির হওয়ায় বিরামপুর রেলষ্টেশন হতে আপ রুটে ৭টি আন্তঃনগর ট্রেন ও ডাউন রুটে ৭টি আন্তঃনগর ট্রেন এছাড়াও বে-সরকারি খাতে আপ ও ডাউনে রুটে সর্বমোট ৪টি মেইল ট্রেন চলাচল করে। এখান থেকে রেলের মাসিক আয় হয় প্রায় ৩১ থেকে ৩৩ লাখ টাকা।
যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় আসন সংখ্যা খুবই সীমিত। এখানে কোন আন্তঃনগর ট্রেনের ১ম শ্রেণির আসন বরাদ্দ নেই। শুধুমাত্র নীলসাগর এক্সপ্রেসের এসি আসন বরাদ্দ থাকলেও অন্য ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলির এসি আসন বরাদ্দ নেই।
বাংলাদেশ রেল, পশ্চিমাঞ্চল রেলের ২৬টি রেলষ্টেশনকে মডেল হিসেবে তৈরি করবে। সাথে থাকবে আধুনিকায়ন। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। পশ্চিমাঞ্চল রেলের জিএম মিহির কান্তি গুহ বলেন, রেলে যাত্রী সেবা মান, রেল প্লাটফর্মগুলোতে আধুনিক যুগোপযুগি করে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হবে।
এতে থাকছে প্লাটফর্ম শেড বড় হবে, প্লাটফর্ম উচু হবে, ২টি করে প্লাটফর্ম তৈরি হবে, যাত্রী যাওয়া আসার জন্য ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা হবে। নারী ও পুরুষ যাত্রীদের জন্য আলাদা চৌশাগার থাকবে। যাত্রীদের বসার জন্য সুন্দর জায়গা ও আধুনিকায়নের ছোয়া। আরও থাকবে বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও ফুড কর্ণার।
রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলভবনে গত (০২ এপ্রিল) এক সেমিনারে বলেন, আগামী মাসে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করা হবে। যেহেতু সরকার মুজিববর্ষ আগামী বিজয় দিবস পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।
ইতিমধ্যে প্রকল্পটি চুড়ান্ত করেছে প্রধান প্রকৌশলী দপ্তর। যাতে করে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে ট্রেনে ভ্রমন করতে পারে। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পশ্চিমাঞ্চল রেলের ২৬টি রেলষ্টেশনকে মডেল হিসেবে তৈরি করা হবে।
এ বিষয়ে রেলযাত্রী জীবন আয়াত বলেন, বিরামপুর ১টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার রেল যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্রস্থল হিসেবে রেলষ্টেশন আধুনিকায়ন ও মডেল প্রকল্পের আওতায় বিরামপুর রেলষ্টেশনটি জায়গা করে নিয়েছে। এ জন্য রেলমন্ত্রীকে বিরামপুর উপজেলা বাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন।
তিনি আরও বলেন, আধুনিকতার পাশাপাশি রেলষ্টেশনের নিরাপত্তা বেষ্টিত সীমানা প্রাচীর ও শহরের সাথে রেলষ্টেশনের যোগাযোগের জন্য ১টি পাবলিক টেলিফোন স্থাপনসহ রেল দূর্ঘটনা ও রেলে ছিনতাই, চুরি, হিজড়াদের উপদৃপ, মোবাইল ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে রেলযাত্রীদের রক্ষার দাবীতে জনস্বার্থে বিরামপুর রেলষ্টেশনে ১টি জিআরপি ফাঁড়ি স্থাপনের দাবী এলাকাবাসীর।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন