বৃষ্টি আর পরিবহন সংকটে ক্ষতির মুখে বীরগঞ্জের সবজি চাষিরা

বীরগঞ্জ সংবাদাতা ॥ বৈশিক মহামারী করোনার কারণে পরিবহন সংকট এবং ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে গত দুইদিনের বৃষ্টিপাতের ফলে ক্ষতির মুখের পড়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সবজি চাষিরা। করোনা সংকট ও বৃষ্টির কারণে পন্যের ক্রেতার চাহিদা না থাকায় এবং বিভিন্ন জাতের সবজিতে পোকার আক্রমনের পাশাপাশি পচন রোগে আক্রান্ত ধরেছে। বিশেষ করে দুইদিনের বৃষ্টিতে বর্ষাকালীন খরিপ-০১ মৌসুমের ত্রিপল-০১জাতের ফুলকপি-বাঁধাকপিতে পচন ধরেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলার এ বছর আনুমানিক ২শত হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হেক্টর জমিতে বর্ষাকালিন ফুলকপি এবং ২.২৫ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি আবাদ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সবজি চাষী উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রাণনগর গ্রামের আলী আকবর জানান, এ বছর ২০শতক জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছি। যেহেতু এটি শীতকালিন সবজি। বৃষ্টি সহ্য করতে পারে না। তাই দুই দিনের বৃষ্টিপাতে ফলনে পচন ধরচে। করোনা এবং বৃষ্টিপাতের ফলে গ্রাহক না থাকায় দামও কমেছে। সপ্তাহ খানেক আগে ১হাজার ১২শত টাকা মন দরে বিক্রয় করলেও এখন ৮শত টাকা মন। একারণে লাভ হওয়ার চেয়ে লোকসানের সম্ভবনা বেশি।
একই কথা জানিয়ে সবজি চাষী কাদের বলেন, করোনার কারণে পরিবহন সংকট এবং দুই দিনের বৃষ্টিতে সবজি নিয়ে কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। বিশেষ করে কৃষকদের উৎপাদিত পন্য সরাসরি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে না পেরে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌড়াত্বে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, সবজি দ্রুত পচন একটি পন্য। তারপর বৈশিক মহামারী এবং আবহাওয়ার বৈরীতা লেগে আছে। এরপরেও কৃষি দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় সবজি চাষ এখন লাভজনক পন্যতে পরিণত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় গত দুই দিনের বৃষ্টিতে কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে মাঠে রয়েছে কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন