পঞ্চগড়ে মোমিনের লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের স্বপ্ন

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ একরামুল হক মুন্না

গরুর খামার থেকে প্রতিমাসে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন মোমিন এর তাই গরুর খামার দিয়ে স্বাবলম্বী হতে চান তিনি। পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের শিংরোড প্রধান পাড়া গ্রামের আলিফ ডেইরি খামারের মালিক মোঃ মমিন প্রথমে শুরু করেন ৭টি গাভী দিয়ে। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার খামারে দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের ১৪টি গরু রয়েছে। মোমিন এর খামার থেকে প্রতিদিন ৩৫ লিটার দুধ পাওয়া যায়। এ দুধ প্রায় ১৪ শত টাকায় বিক্রি হয়। সব বাধা পেরিয়ে এখন তিনি জীবনযুদ্ধে সফল গরু খামারের মালিক । তার এমন সফলতায় এলাকার অনেক নারী, পুরুষ ও বেকার যুবকরা আগ্রহী হচ্ছেন খামারের প্রতি। এলাকায় তিনি এখন অনেকের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

গরু খামারের মালিক তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড প্রধান পাড়া গ্রামের মোঃ শাজাহান আলীর পুত্র । সে তার পরিবারকে নতুন জীবন দিয়েছে গরুর খামার করে। কিছুদিন আগেও সংসারে ছিল অভাব অনটন। সংসারের অভাব অনটনের কারণে যখন জীবন থেমে যাচ্ছিল তখনই খামার করার চিন্তা মাথায় আসে তার। মাত্র দুইটি দেশি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি।

বর্তমানে মোমিনের খামারে রয়েছে দেশি-বিদেশি গাভি, বাছুর, সহ ১৪টি গরু। প্রতিদিন একটি ৮ টি গাভির মধ্যে ৫ টি গাভী থেকে ৩৫ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে এই দুধ বিক্রি হয়। তা থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৪২ হাজার টাকা আয় হয়।

এমন উদ্যোক্তার কাজে সাহায্য করছেন তার দুই সহধর্মিণী । খামার পরিচর্যায় তিনিও বেশ ব্যস্ত। উন্নতমানের শেটে রেখে গরুগুলোকে লালন-পালন করা হচ্ছে। প্রতিটি গরুর মাথার ওপর ফ্যান রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে। মোমিনের খামারটি এলাকার আদর্শ খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখন তিনি যেখানেই হাত দেন তাতেই যেন সোনা ফলে। চাকরি না খুঁজে নিজেই নিজের পায়ে দাঁড়ানো যায় মোমিন তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এক সময় অভাব অনটনে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার অসুবিধা হচ্ছিল। আজ তার পরিবার বেশ স্বচ্ছল।

আলিফ ডেইরি খামারের মালিক মোঃ মোমিন হোসেন জানান, আমি গবাদি পশুর খামার করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি। প্রতিদিন ৩৫ লিটার দুধ বিক্রি করে ১৪ শত টাকা আয় হয়। আমার এই খামার দেখে আশাপশের নারীরাও গবাদিপশু পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। শিক্ষিত বেকার ভাইয়েরা চাকুরির পেছনে ছুটে বেড়ান। তারা এটা নিজেরা করলে আমার মতো তারা মানুষকে চাকরি দিতে পারবে। তিনি আরো বলেন, এ খামারকে আমি আরো অনেক বড় করতে চাই। এটি হবে একটি আধুনিক খামার। উপজেলা প্রাণি সম্পদ থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে আমি আরো সামনে এগুতে পারব।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলাম বলেন, মোমিন হোসেন গরুর খামারে সবগুলো গরুই উন্নত জাতের। প্রাণী সম্পদ বিভাগ থেকে এই খামার নিয়মিত টিকা এবং ভিটামিন জাতীয় ওষুধসহ সকল সুবিধা পাবেন। আশা করছি পঞ্চগড়ে এই খামারটি একটি মডেল খামার হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন