আজকের বিষয় পর্ব ৫৮#শিশুর জেদ বা অতিরিক্ত রাগ।

ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান ॥
বাচ্চার জেদ বা অতিরিক্ত রাগ মা বাবার জন্য চ্যালেন্জিং।বাচ্চাদের জেদ মুক্ত করতে বা অতিরিক্ত রাগ থেকে রক্ষা করতে বাচ্চাদের প্রতি ইতিবাচক ও যত্নশীল হওয়া জরুরী।
বিষন্নতা, ক্লান্তি,একঘেয়েমি ও অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে বাচ্চারা জেদি বা অতিরিক্ত রাগী (Stubborn) হয়।পারিপারশীকতা ও বংশগত কারণেও বাচ্চারা জেদি হয়।Forced to READ, Frustration এবং অধৈর্য্যেশীল বাবা মা, জেদের অন্যতম কারন মনে করা হয়।
কিভাবে বুঝবেন আপনার বাচ্চা জেদি বা অতিরিক্ত রাগী হয়ে যাচ্ছে।কোন কারণে রেগে গেলেই খারাপ আচরণ করে। ছোট কারণেই রেগে যায় এবং জিনিস পত্র ভাংচুর করে। খেলার সাথি ও ভাই বোন দের মারধর করে। অন্য শিশুরা আপনার বাচ্চার সাথে মিশতে চায় না। খুব রেগে গেলে নিজেই নিজকে আঘাত করে।
শিশু রেগে গেলে নীজে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন এতে বাচ্চা নীজ থেকে চুপ বা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
বাচ্চা রেগে গেলে বা জেদ করলে ওকে জড়িয়ে ধরুন, আদর করবেন এবং কোলে নেবেন দেখন ম্যাজিকের মত কাজ হবে এবং নিয়মিত কাজটি করেন।
শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, শিশুর ভালো কাজের প্রশংসা করুন।
পড়ালেখার পাশাপাশি ধমীয় আচরণ, স্বাস্থ্য বিধিমালা মেনে চলবার নিয়ম শেখান।শোবার ঘড়ে কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস রাখবেন।
বাচ্চাদের খেলতে দিন এবং খেলতে উৎসাহ দিন, নিজেও শিশুর সাথে খেলতে পারেন।প্রয়োজন এ বাচ্চাদের কোচ হউন।
বাচ্চাকে অগ্রধিকার দিন। জেদ উপেক্ষা করুন।জেদ করে কোন কিছু দাবি করলে পুরন করার দরকার নাই বরং তাকে বুঝিয়ে বলুন ভাল ভাবে চাইতে, তখন দিন,দেখবেন কিছু দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
বাচ্চা কে বকাঝকা করবেন বা তিরস্কার করবেন না।
বাচ্চার সামনের বাচ্চার জেদ নিয়ে অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
বাচ্চার কথা শোনার চেষ্টা করুন ওকে বুঝিয়ে বলুন।
একগুঁয়ে বা জেদি বাচ্চার উপর চাপ প্রয়োগ করলে তারা গ্রহণ করে না।তাদের সাথে চিৎকার করে কথা বলবেন না। বাচ্চাদের সামনে কখনোই ঝগড়া বিবাদ করবেন না এতে তারা আরো জেদি ও রাগী হতে পারে।
বাচ্চাদের কোন সময় চড়,থাপ্পড় মারবেন না। উস্কানিমূলক কথা বলবেন না বা একই কথার পুনরাবৃত্তি করবেন না।
বাচ্চাদের প্রতি ইতিবাচক ও যত্নশীল সহনশীল হন ও সংবেদনশীল হন। বাচ্চা একসময় ঠিক হয়ে যাবে।
ভালো কাজ করলে পুরস্কৃত করুন বাচ্চা ভালো কাজ করতে উৎসাহ পায়।
কোন সময়ই অন্য বাচ্চাদের সাথে তুলনায় যাবেন না।
বাচ্চার মতামত কে গুরুত্ব দিন,সবসময়ই নিজের সিদ্ধান্ত চাপাবেন না।মিথ্যা বলবেন না। বাচ্চাদের সাথে তাদের সমস্যা গুলো নিয়ে আলোচনা করুন ভালো ইচ্ছে গুলো পুরোন করুন।
তাদের বুঝতে দিন তারা আপনার কাছে অনেক মুল্যবান।
ভুলত্রুুটি ধরবেন না।
ঘুমনো বা খাওয়ার সময় মোবাইল, টিভি বা ট্যাবকে না বলুন।
সব শেষে বলব বাচ্চার সাথে কথা বলে তার একটি রুটিন তৈরি করুন কখন খেলবে,কখন পড়বে কখন স্বাস্থ্যসেবা বিধিমালা শিখবে,কখন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শিখবে ইত্যাদি।

ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান
রোগমুক্তি ক্লিনিক গোলকুঠি দিনাজপুর

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন