দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ মামলা গ্রহন করেনি পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ

রফিকুল ইসলাম ফুলাল দিনাজপুর প্রতিনিধি :
সন্ত্রাসীদের হামলায় বসতবাড়ি,খামার ও বাগানের জমিসহ সর্বস্ব লুট হওয়া অসহায় সাজ্জাদ হোসেন রুবেলের মামলা গ্রহন করেনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ। পরিবার পরিজনের জীবন বাঁচাতে ও ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে বিচারপ্রাপ্তির আশায় এখন সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ক্ষতিগ্রস্থ সাজ্জাদ।

৩০ জুন বুধবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগ করেন শহরের উত্তর বালুবাড়ি মহল্লার মো: আবুল ফজলের পুত্র মো: সাজ্জাদ হোসেন রুবেল। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পেশায় তিনি একজন ড্রাইভিং প্রশিক্ষক। ২০০১ সালে পার্বুতীপুর রেলওয়ের ততকালিন উপ-সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী(এইএন) ফজলুর রহমানের স্ত্রী মাহমুদা রওশন ও পুত্র মো: তায়েবকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষন দেয়ার সুবাধে সর্ম্পক তৈরী হয়েছিলো। তারপর থেকে সেখানে যাতায়াত শুরু হয়,একপর্যায়ে এইএন ফজলুর রহমান আমাকে রেলওয়ে চাকুরী দেয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা নেয়, কিন্তু চাকুরী দিতে পারেনি। একপর্যায়ে চাকুরীর বদলে ২০০৯ সালে পার্বুতীপুর মধ্যপাড়া পাথরখনি সংলগ্ন রেলওয়ে ষ্টেশন (১৯৯২ সালে নির্মিত) পরিত্যক্ত ৩৯ একর জমির মধ্যে ৩ একর ২৩ শতক জমি (১৯/০৮/২০০৯ইং) লীজ করে দেয়। সেই সময় এইএন ফজলুর রহমান তার স্ত্রী মাহমুদা রওশানের নামে ৪টি মৌজায় ১৪ একর সম্পত্তি লীজ করে দেন। যেখানে এইএন ফজলুর রহমান চালাকি করে লীজের দলিলে তার স্ত্রী মাহমুদা রওশনের স্বামীর নামের পরিবর্তে পিতার নাম দিয়েছেন। লীজ নেয়ার পর আমরা জায়গার দখল নিতে গেলে স্থানীয়দের বাধার সন্মুখীন হই। তখন মাহমুদা রওশন জমি থেকে স্থান ত্যাগ করে এবং আমাকেও চলে যেতে বলে।

দিনাজপুরের সমস্ত ব্যবসা গুটিয়ে ফেলায় আমার আর ফিরে আসা হয়নি,সেখানেই রেলওয়ের একটি পরিত্যক্ত কোয়াটারে পরিবার পরিজন নিয়ে উঠি। সেখানে কষ্টের মধ্যে বসবাস শুরু করায় স্থানীয়দের সাথে সুসর্ম্পক তৈরী হয়। একপর্যায়ে আমার নামে লীজ হওয়া ৩ একর ২৩ শতক জমিসহ আরো ৬ একর খাল ভরাট করে আমি সেখানে মাছের খামারসহ অন্যান্য চাষাবাদ করে জীবিকা নির্র্বাহ করছিলাম। আমি স্থানীয় মানুষের কাছে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা ঋন করে মাছের খামার ও চাষাবাদ যোগ্য জমি গড়ে তুলেছি। আমার এই উন্নয়ন দেখে এইএন ফজলুর রহমান(বর্তমানে সাবেক),তার স্ত্রী মাহমুদা রওশন সন্ত্রাসী লোকজন দ্বারা জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যে হুমকি দিতে শুরু করে। আমি কর্ণপাত না করায় তারা বিভিন্ন সময়ে আমাকে বিনাদোষে পুলিশ দ্বারা নানান ভাবে হয়রানী করতে শুরু করেন। যে কারনে আমাকে অন্যায় ভাবে তারা ৩ বার জেল খাটিয়েছে। এরপরেও আমাকে জমিতে থেকে সরাতে না পেরে তারা গত ৩ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মাহমুদা রওশন নিজ নামীয় লীজের ১৪ একর জমি আপন ভাই আবুল ফজর মোহাম্মদ রিজভী ও নিকটতম ৬ জন আত্বীয়স্বজনের নামে হস্তান্তর করে দেয়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,এরপরেই আমার উপরে সন্ত্রাসীদের অত্যাচার আরো বেড়ে যায়। গত ২৬ জুন/২১ প্রকাশ্য দিবালোকে ফজলুর রহমান, মাহমুদা রওশন ও তার ভাই আবুল ফজল মোহাম্মদ রিজভীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর লুটপাট করেছে এবং আমাকে পরিবারসহ এক কাপড়ে বের করে দিয়েছে। এব্যাপারে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহন করেনি,এখন লকডাউনের কারনে আদালতেও যেতে পারিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন এবং বসতবাড়ি ও জমিতে বসবাসের প্রয়োজনীয় সহযোগীতার দাবী করেন তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন