সাঁকো ভেঙ্গে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥ একরামুল হক মুন্না
দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজ না থাকায় দুই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ চাওয়াই নদী দিয়ে পারাপারের এক মাত্র অবলম্বন নড়বড়ে সাঁকো। ব্রিজের অভাবে ১০টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মরার উপর খড়ার ঘা গত তিন জুলাইশনিবার সকালে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির ¯্রােতে লোহার এঙ্গেলে কুচুরি পানা লেগে থাকায় সেই সাঁকো অর্ধেক অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগে পড়েছে দুই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। স্বাধীনতার ৪৮ বছরপার হলেও এ দুর্ভোগের ঘানি পোহাতে টানছে দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার স্থানীয় মানুষ।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা এবং ১নং ওমর খানা বোর্ড বাজারের পশ্চিম রাস্তা পাশে সেলিল্যান্ট টি এস্টেট চাওয়াই নদী সাঁকোই দিয়ে সাতমেরা ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্র্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘ দিন ধরে চড়ম দুর্ভোগ পোহাতে এলাকার সাধারণ মানুষদের। বর্ষা মৌসুমে সাতমেরা ইউনিয়নের খইপাড়া, ডাঙ্গা পাড়া, ফকির পাড়া, সরকার পাড়া, পখিলাগা থেকে ১নং ওমর খানা ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ সহ কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী বন্যার সময় জীবনের ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় চাওয়াই নদীর সাঁকোই এক মাত্র যাতায়াতের পথ। চলতি মৌসুমে নদীতে পানি থাকায় তাদের স্কুল ও কলেজে বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা হাট বাজারে যেতে হয়। দীর্ঘ দিনের দাবীতে ব্রিজটি নির্মাণের কোন উদ্যোগ না থাকায় এলাকার স্থানীয়রা নিজের টাকা ও চাঁদা তোলে প্রথমে বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেন।
এ ভাবে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোটি মেরামত করে আসছেন খইপাড়া মোঃ সামছুল হক। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জসিম উদ্দিন গ্রাম ডাঙ্গা পাড়া তিনি জানান দেশ স্বাধীন করেছি স্বাধীন ভাবে চলাফেরার জন্য এই দুর্ভোগ থেকে কত দিনে মুক্তিপাব জানি না। তিনি আরও বলেন দুর্ভোগের কারণে ধান,পাট, অন্যান্য ফসল বাজারে বিক্রি করতে হলে আমাদেরকে গুয়ালঝার বাজার দিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুড়ে যেতে হয় আর চাওয়াই নদীর উপর ব্রিজ হলে জগদল বাজারের দুরত্ত হবে ১২ কিলোমিটার আবার কোন সময় গুরুতর আহত অথবা ডেলিভারি রোগি নিয়ে ওমর খানা ব্রিজ হয়ে ঘুড়ে যেতে হয় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। এ সময় আরও এক জন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর জলিল খইপাড়া তিনি বলেন আমি ৩৫ বছর ধরে এই চাওয়াই নদী দিয়ে যাতায়াত করি। যখন সোঁকা ছিল না বাড়ি থেকে বোর্ড বাজার, পঞ্চগড় শহরে বা জগদল বাজার যাওয়ার খরচের ব্যাগে লুঙ্গি, গামছা নিয়ে পরনের কাপড় খুলে লুঙ্গি অথবা গামছা পরিধাণ করে নদী পারাপার করি। এ ব্যাপারে আমার সংবাদ প্রতিবেদককে জানান সাবেক এম,পি সাংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হক প্রধানের সাথে এলাকা বাসি নিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের দুই টন রট অনুদান দেন বর্তমানে রট এঙ্গেল দিয়ে সাঁকোর ফ্রেম এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি করে জীবন ঝুকিপূর্ণ নিয়ে পারাপার করছি।
মুক্তিযোদ্ধা তিনি আরও বলেন, বর্তমান সাংসদ সদস্য মোঃ মজাহারুল হক প্রধানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এলাকা বাসিদের আশংক্ষা দিয়েছেন ব্রিজটি নির্মাণ করার জন্য আমি অবহিত আছি। বোর্ড বাজার শবজি ব্যবসায়ী মোঃ জিল্লুর রহমান সরকার পাড়া তিনি বলেন প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুকিনিয়ে রাতের অন্ধকারে বাতি জালিয়ে পারাপার করেন। জগদল ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মনছুর আলী এইস,এস, সি পরিক্ষার্থী খইপাড়া জানায় বর্ষা মৌসুমে চাওয়াই নদী ভরাট থাকার কারণে প্রাইভেট এবং সময় মত যেতে পারিনা। এ দিকে একই সমস্যার কথা বলেন এম, আর কলেজের ইতিহাস অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মোঃ শাহবদ্দিন। ওমর খানা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান মোঃ আমিরুল ইসলাম তিনি জানান খইপাড়া, ডাঙ্গা পাড়া, ফকির পাড়াপ্রায় ১২ জন ছাত্র-ছাত্রী ২০১৬ সালে বর্ষা মৌসুমে চাওয়াই নদীর সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় সাঁকো ভেঙ্গে নদীতে ভেসে যায় পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে।
এদিকে সাতমেরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান যোগাযোগে তিনি বলেন ব্রিজ নির্মাণের জন্য বেশ কয়েক বার সাবেক ও বর্তমান সাংসদদের কথা বলেছি এবং স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী,জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এল,জি,ডি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ তাতে কাজ হয় না বর্তমানে সাঁকোর অর্ধেক অংশ ভেঙ্গে পারায় ১০ টি গ্রামের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হবে তাই আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সরজমিনে এসে সাঁকো নির্মানের জন্য সরকারী বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বলেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন তিনি সাঁকোটি সরজমিনে পরিদর্শন করে সরকারী বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করে চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহন করছি। এসময় পরিদর্শনে পঞ্চগড় সহকারী ভূমি কমিশনার আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন