1. admin@dailykhaborekdin.com : দৈনিক খবর একদিন :
  2. khaborekdin2012@gmail.com : Khabor Ekdin : Khabor Ekdin
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তিঃ
করোনা প্রতিরোধে গ্রাম পর্যায়ে মনিটরিং বাড়াতে হবে — হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ফুলবাড়ীতে দীর্ঘদিনের ৫ হাজার বিঘা জমির জলাবদ্ধতা নিরসন নির্মাণকৃত ইউড্রেনে পানি প্রবাহের উদ্বোধন ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ ও মাস্ক বিতরণ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির হাবিপ্রবিতে বিদেশী শিক্ষার্থীদের ঈদ উৎযাপন আজকের বিষয় পর্ব ৬২#শিশুর করোনা (Covid 19), করণীয় ও চিকিৎসা। ঘোড়াঘাটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর এককালীন চেক বিতরণ আমের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী দিনাজপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীতে অর্ন্তভূক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা সভা দিনাজপুরে করোনায় নতুন আরো ৬৮ জনসহ মোট আক্রান্ত ১১২১২ জন \ এ পর্যন্ত ২০৮ জনের মত্যু

চেনা মুখ অচেনা মানুষ / দু’বারের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল জব্বার

দৈ‌নিক খবর একদিন ডেস্ক
  • সর্বশেষ সংবাদ বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ৭৩ বার প‌ঠিত

আজহারুল আজাদ জুয়েল ।।

একবার নয়, দুইবারের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। এমন মর্যাদা প্রাপ্তি খুব কম শিক্ষকের জীবনেই ঘটে থাকে। দক্ষতা, মেধা, পেশাগত সততা, আন্তরিকতা, কমিটমেন্ট ছাড়া দুই-দুইবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া সম্ভব নয়। এই মর্যাদার অধিকারি যিনি, তাঁর নাম প্রফেসর আব্দুল জব্বার। সাবেক অধ্যক্ষ। বর্তমানে অবসরে। তাঁকে অনেকেই চেনেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে, তিনি কর্ম জীবনে দুইবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছিলেন।
প্রফেসর আব্দুল জব্বার তার দীর্ঘ কর্ম জীবনে পাঁচটি কলেজে চাকুরি করেছেন। দুইটি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। ঠাকুরগাঁও সরকারি ডিগ্রী কলেজ এবং দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে কলেজ দুটো জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। একজন অধ্যক্ষ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। যদি কলেজ পরিচালনায় সৎ, একনিষ্ঠ ও আন্তরিকভাবে কর্তব্য পালন করেন, তাহলে ঐ প্রতিষ্ঠনই সেরা প্রতিষ্ঠান হবে, কর্মজীবনে কাজের মদ্য দিয়ে এই সত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রফেসর আব্দুল জব্বার।
প্রফেসর আব্দুল জব্বার হচ্ছেন গৌরব, মর্যাদা, দায়িত্বশীল এক শিক্ষকের নাম। দিনাজপুর জেলায় জব্বার স্যার হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর জন্ম ১৯৪৭ সালের ১ অক্টোবর বিরল উপজেলার সাবইল গ্রামে। তার পিতার নাম মরহুম মাহতাব উদ্দিন, মা মরহুমা সপুরা খাতুন।
তিন ভাইয়ের মধ্যে মেঝো আব্দুল জব্বার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছেন জন্মস্থান সাবইল গ্রামের পূর্ববর্তী এক কিলোমিটার দূরের রামচন্দ্রপুর-শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ঐ স্কুলে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর বিরল হাই স্কুলে ৫ম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৬২ সালে মেট্রিক পাশ করেন। ১৯৬৪ সালে দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় (প্রশাসন) ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।
শিক্ষা জীবন শেষ করেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন প্রফেসর আব্দুল জব্বার। ১৯৬৯ সালে কেবিএম কলেজের বানিজ্য বিভাগে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু হয় তার। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দক্ষাতার সাথে অধ্যাপনা করেন এই কলেজে। ১৯৭৪ সালেই যোগ দেন দিনাজপুর সরকারি কলেজে। ১৯৭৭ সালে তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ লাভ করলেও শেষ পর্যন্ত শিক্ষকতার মত পবিত্র ও মহান পেশাকেই তার জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়ে এই পেশাতেই থেকে যান। সরকারি চাকুরিতে শিক্ষকতার প্রথম পর্যায়ে বৃহত্তর দিনাজপুরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষালয় দিনাজপুর সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত।
এরপর তিনি প্রমোশন লাভ করেন এবং বদলী হন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। সেখানে কিছুদিন কর্মরত থাকার পর আবার বদলী হয়ে আসেন দিনাজপুর সরকারি কলেজে। ২০০০ সালে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে যোগ দেন বগুড়ার আযিযুল হক সরকারি কলেজে। ২০০১ সালে অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন ঠাকুরগাঁও গভর্ণমেন্ট কলেজে। ২০০২ সালে অধ্যক্ষ হয়ে আসেন দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে। ২০০৪ সাল পর্যন্ত এই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ এবং দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঐ দু’টি কলেজই সরকারিভাবে সংশ্লিষ্ঠ জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়। একইভাবে নিজেও ব্যক্তিগতভাবে জেলা সমূহের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের স্বীকৃতি লাভ করেন। তার এই সম্মান প্রাপ্তি দিনাজপরের জন্য এক গৌরবোজ্জল বিষয়।
খেলাধুলা ও লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বার। বিশেষ করে দিনাজপুর সরকারি কলেজে অধ্যাপনাকালে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিতেন। শিক্ষকদের আভ্যন্তরীণ দাবা ও কন্টাক্ট ব্রিজ প্রতিযোগিতায় বরাবরই চ্যাম্পিয়ন হতেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। আবার বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে লেখালেখি করছেন।
বর্তমানে দিনাজপুর শহরের পাহাড়পুরের বাসভবনে তার অবসর সময় কাটছে লেখালেখি ও সমাজকর্ম করে। তার লেখা ৪টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে দুইটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক, অন্যগুলো কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসুচি ভিত্তিক। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থগুলার নাম ‘মুক্তিযুদ্ধে সখিনা’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের বিভিষিকা।’ তার লেখা বিকম শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আধুনিক বাজারজাতকরণ’ এবং অইকম শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ব্যাংকিং ব্যবস্থা’ শীর্ষক বইদুটো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। বর্তমানে তার লেখা আরো দুইটি বই মুদ্রণের অপেক্ষায় আছে।
প্রফেসর জব্বার চ্যানেল আই এর কৃষি বিষয়ক একটি রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২০০৮ সালে দেশের সেরা তিনজন রচয়িতার একজন হয়েছিলেন। পুরস্কার পেয়েছিলেন ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় তার বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রফেসর জব্বার লেখালেখির পাশাপাশি সমাজকর্মও করছেন। নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন এস আর হাই স্কুল নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিরলের কাঞ্চন মডেল ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিরল মহিলা কলেজ, ধুকরঝারী ডিগ্রী কলেজসহ দিনাজপুর সদরের ও চিরিরবন্দরের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন। এছাড়া তিনি তার গ্রামে একটি চক্ষু শিবিরের আয়োজন করেছিলেন। ঐ শিবিরে অর্ধ শতেরও বেশি রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হয়েছিল। কয়েকজন রোগীর চোখে বিনামূল্যে লেন্স লাগানো হয়েছিল।
এছাড়া বেশ কিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে যুক্ত রয়েছেন। প্রবীণ হিতৈষী সংঘ- দিনাজপুর এবং বাংলাদেশ এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশন- দিনাজপুর এর সভাপতি তিনি। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস আর হাই স্কুল-বিরল এর । সহ-সভাপতি ছিলেন জুবিলি হাই স্কুল পরিচালনা পরিষদে। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন পাক-পাহাড়পুর জামে মসজিদ কমিটিতে। দিনাজপুর ডায়াবেটিস ও স্বাস্থ্য সেবা হাসপাতাল, জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনষ্টিটিউট এবং দিনাজপুর রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালের আজীবন সদস্য তিনি। এছাড়া চ্যানেল আই দর্শক ফোরাম-দিনাজপুর ও দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এবং বালুয়াডাঙ্গা জামে মসজিদ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা। তিনি ২০০৭ সালে পবিত্র হজ¦ সম্পন্ন করেছেন।
দুই বারের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রফেসর আব্দুল জব্বার কর্মজীবনে বেশ কিছু সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। ২০০৬ সালে প্রবীণ দিবসে মাতৃ সেবার জন্য মমতাময় জাতীয় পুরস্খার, মুক্তিযুদ্ধে সখিনা গ্রন্থের জন্য দিনাজপুর লেখক ফোরামের শুভেচ্ছা স্মারক অ্যাওয়ার্ড, চ্যানেল আই এর কৃষক অধিকার বাস্তবায়নের সোচ্চার হই পদকসহ আরো অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। এছাড়া ক্রাউন সিমেন্ট তাকে দিয়েছে ‘অ্যাওয়ার্ড একসেলেন্স ইন টিচিস।’
প্রফেসর জব্বার ১৯৬৯ সালে বিরল উপজেলার ভবানীপুর গ্রাম নিবাসী মোঃ মোস্তফার কন্যা মমতাজ বেগমের সাথে বিাবহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার প্রথম পুত্র মরহুম ফিরোজ আহমেদের তিন মাস বয়সে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবার-পরিজন সহকারে তিনি ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ভারতে অবস্থানকালে মুক্তিযুদ্ধকালিন ৬ ও ৭নং সেক্টরের রিক্রুটিং অফিসার ও লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান এমএনএ’র অধীনে মোটিভেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর জন্য প্রতি মাসে ৫০ টাকা সম্মানী লাভ করতেন। দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত শরনার্থীরা কেউ যেন বাংলাদেশে ফিরে না যায় তা বোঝানোই ছিল মোটিভেশন অফিসারের মূল কাজ। ‘একটু কষ্ট করেন, স্বাধীন আমরা হবোই। আর স্বাধীন হয়েই আমরা আমাদের দেশে যাব’, শরনার্থীদের এমন কথা বলে ক্যাম্পে ধরে রাখার চেষ্টা বরতেন প্রফেসর জব্বার। এছাড়া ক্যাম্পের শরনার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা. অভাব-অভিযোগ জেনে নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোও তার দায়িত্বের অংশ ছিল। শরনার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরতে কলাকাতার প্রিন্সেপ ষ্ট্রিটের শরনার্থী বিষয়ক ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসেও যেতেন। এর চেয়ারম্যান ছিলেন মুজিবনগর সরকারের ত্রাণমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জান, সেক্রেটারী ছিলেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এমএনএ।
প্রফেসর জব্বারের দুই পুত্র বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার এবং এক পুত্র ইংরেজীর প্রভাষক। একমাত্র কন্যা অকালে পৃথিবীর মায়া ছেড়েছেন।
চাকুরি থেকে অবসর নেয়ায় এখন অফুরন্ত সময় প্রফেসর জব্বারের। অবসরকালিন এই সময়টাকে ধর্মকর্ম, সমাজকর্ম এবং লেখালেখিতে ব্যস্ত রেখেছেন। সফল কর্মজীবন শেষে পাহাড়পুরের বাসভবনে সক্রিয় অবসর জীবন যাপন করছেন অতি পরিচিত জব্বার স্যার।

আজহারুল আজাদ জুয়েল
সাংবাদিক, কলামিস্ট, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সকল সংবাদ
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )