করোনাকাল: অনলাইনে মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী হাবিপ্রবি’র মিশকাত

মো: তানভির আহমেদ, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

মৌসুমি ফলে ভরপুর বাজার। লিচুর সময় শেষ হলেও এখনো আম-জামে ফলের দোকানগুলো ভর্তি। তবে ফল বিক্রেতাদের দাবি, ঢিলেঢালাভাবে চলছে তাদের বেচাকেনা। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে মানুষের অর্থনৈতিক দৈন্যদশা যাওয়ায় বাড়তি করে কেউ ফল কেনার দিকে ঝুঁকছে না। তবে অফলাইনে বিক্রি কম হলেও অনলাইন সপগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষিত ও তরুণ জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাও এসব অনলাইন দোকানের ক্রেতা। অনলাইনে অর্ডার করা সহজ ও সহজলভ্য হওয়ায় অনেকের পছন্দের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। বিধিনিষেধের মধ্যে বাজারের ঝক্কিঝামেলা এড়িয়ে তাই ক্রেতারা ঘরে বসেই স্বাদ নিচ্ছেন রাজশাহী, রংপুরের বিখ্যাত আমগুলোর।

অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক আমবাগান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে এসব আম বিক্রি করছেন। কম মূলধনে লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় অনেকে সখের বসে আবার অনেকে খন্ডকালীন এ পেশায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন ই-কমার্স ব্যবসায়ী হিসেবে। তাদেরই মধ্যে একজন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৭ব্যাচের শিক্ষার্থী মো: মিরাজুল আল মিশকাত। গত এক মাসে নিজস্ব বাগান থেকে শুধু হাড়িভাঙ্গা আমই বিক্রি করেছেন ১২৮ মন। এছাড়াও তার সংগ্রহে রয়েছে রংপুরের বিখ্যাত সাদা আম, আম্রপালিসহ আমের বেশ কয়েকটি জাত। প্রতিষ্ঠা করেছেন ফেসবুক গ্রুপ ‘উত্তরের আমঘর’। নিজের কাজের বর্ণনা দিয়ে তরুণ এ উদ্যোক্তা দৈনিক খবর একদিন কে বলেন, ‘ নিজেদের বাগান থাকায় খুব সহজে পাইকারি দামে উন্নতমানের আম সরবরাহ করতে পারি। অতি অল্প সময়ের মাঝেই ক্রেতাদের কাছে ফ্রেস এবং উন্নত আম পৌঁছে দেওয়ায় তাদের মাধ্যমে নতুন নতুন ক্রেতা আমার থেকে আম নিচ্ছেন। লালমাটিতে রোপন করা গাছ থেকে হাড়িহাঙ্গা আমের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায়। প্রতিবছর প্রায় ছয় হাজারের অধিক মণ আম আমাদের পারিবারিক বাগান থেকে উৎপাদিত হয়। ব্যক্তিগত ভাবে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছি এই সময়ে, যা নিজের কাছে সত্যিই অনেক ভালোলাগার।পক্ষান্তরে, আরেকটি কথা না বললেই নয়, এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসতে বেশ বেগ পেতে হয়। সেইসাথে রংপুর থেকে যদি রাজশাহীর মতো স্পেশাল ম্যাংগো ট্রেন সার্ভিস সরকার চালু করতো তবে উত্তরের উদ্যোক্তারা অনলাইনে ভালো ব্যবসা করতে পারতো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন