আজকের বিষয় পর্ব ৬৪# শিশুর ডেঙ্গু।

ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান : Covid 19 এর সাথে দেশে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু।ডেঙ্গু একটি পীড়াদায়ক রোগ তবে প্রাণঘাতি নয়,অবহেলা করলে প্রাণঘাতি হতেপারে।
এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়।ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত কোন মশা কোন মানুষ কে কামড়ালে ৪-৭দিনের মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা যায়। আক্রান্ত কোন ব্যাক্তিকে ভাইরাস বিহীন কোন মশা কামড় দিলেই এডিস মশা ডেঙ্গু ভাইরাস এ আক্রান্ত হয়।এভাবে একজন থেকে আর একজনের মধ্যে ছড়িয়ে পরে।
প্রথম দিন থেকেই তীব্র জ্বর সারা শরীরে ব্যাথা, হঠাৎ জ্বর যা ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে।হাড় জোড়া কোমড়ের ব্যাথা, চোখের পিছনে ব্যাথা ইত্যাদি ডেঙ্গুর উপসর্গ ।ডেঙ্গু জ্বরকে ব্রেক বোন ফিভারও বলা হয়। জ্বর হলেই ডেঙ্গু নয়,হতে পারে করোনা, টাইফয়েড,ফ্লু বা Urinary track infection.
ডেঙ্গু কয়েক প্রকারের হয়ে থাকেঃ
ডেঙ্গু ফিভার।
ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার।
ডেঙ্গু সক সিনড্রোম।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বর্ষা ও গরমে ডেঙ্গু দেখা যায় শীত কালে সাধারণত এটি হয় না।শীতে লার্ভা অবস্থায় অনেক দিন বাঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতে সেগুলো থেকে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত এডিস মশার বিস্তার লাভ করে।
ডেঙ্গু দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে মারাত্মক হয় বিশেষ করে শিশুদের।
বাড়ীর ছাদ ফুলের টব নির্মানাধীন ভবনের বিভিন্ন জায়গায়,রাস্তার পাশের টায়ার, এসি ফ্রিজ বদনা,হাইকমোড,নারিকেল এর খোসা ও ডাসবিনের পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে।
প্রতিরোধ একমাত্র উপায় যা আমরা বংশ বৃদ্ধি রোধ করতে পারে।
একই সঙ্গে করোনা বা ডেঙ্গু আক্রান্ত হতে পারে।
করোনায় ঘ্রান পায় না শ্বাসকষ্ট হয়।ডেঙ্গুতে ঘ্রাণ অটুট থাকে ও সাধারণত শ্বাসকষ্ট হয় না।
নাক দিয়ে রক্ত পরা বা কালো পায়খানা হলে এটি মারাত্মক লক্ষন।
বিশ্রাম ও শিশু চিকিৎসক এর পরামর্শে চললে পুরপুরি মুক্তি পাওয়া যায়।
করোনা ও ডেঙ্গু পরীক্ষা এক সাথে করা উচিত।
ডেঙ্গুতে রেশ হয় যা অনেকটা এলার্জি বা ঘামাচির মত।বমি ক্লান্তি অবসাদ ইত্যাদি ডেঙ্গু লক্ষন। জ্বর ভালো হওয়ার ২/৪ পর আবার জ্বর আসলে এটাকে বাই ফেজিক জ্বর ব’লে।
ডেঙ্গু জ্বর হলে ৪-৫দিন পর রেশ হয়।
দাঁতের মারি থেকে রক্তক্ষরন,কালো পায়খানা,বুকে পেটে পানি আসা,জন্ডিস বা প্রসাব না হওয়া ইত্যাদি মারাত্মক লক্ষন।তখন কিডনি বা লিভার ফেলিওর হতে পারে।
উপরের উপসর্গ গুলোর সাথে Circulatory Failure হলে এটাকে ডেঙ্গু সক সিনড্রোম বলে।তখন ব্লাড প্রেসার কমে যায় নাড়ীর স্পন্দন ক্ষীন হয় বা দ্রুত হয়।শরীর হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়।প্রসাব কমে যায় Unconscious পারে ও মৃত্যু হতে পারে।
জ্বর বা উপসর্গ থাকলে সাথে শিশু বিশেষজ্ঞ দেখান।
ডেঙ্গু সক সিনড্রোম মৃত্যুর কারন হাতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখান দরকার এবং হাসপাতালে ভর্তি করাবেন :
রক্ত পায়খানা হলে
প্লাটিলেট কমে গেলে
বুকে পানি জ্মে শ্বাসকষ্ট হলে বা পেট ফুলে গেলে
প্রসাব না হলে
জন্ডিস হলে
প্রচন্ড পেট ব্যাথা বা বমি হলে।
কি পরীক্ষা করাবেন:
প্রথম ৩/৪দিন NS1 Positive হয়।Positive মানে কনফার্ম ডেঙ্গু ফিভার।এটা ৩-৪ প্রথম ৩/৪দিন রক্তে পাওয়া যায়, তারপর নেগেটিভ হয়ে যায়।
৫-১০দিনের মধ্যে Immunoglobulin M Positive হয় হয়। ১০দিন পর IgM নেগেটিভ হয়ে যায়।
এর পর আসে Immunoglobulin G.
IgM positive হলে রিসেন্ট ইনফেকশন। IgG positive হলে পর্বের ইনফেকশন,IgG কয়েক বছর পর্যন্ত রক্তে থাকতে পারে।
৪-৫দিন CBC Platelet করাই ভাল। Platelet এক লক্ষেের কম হলে সঙ্গে সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শে নেবেন।
৫-১০দিনের মধ্যে ডেঙ্গু সাধারণত ভালো হয়ে যায়। মিনিমাম বা তেমন কোন চিকিৎসার দরকার হয় না।
যে কোন প্রয়োজনে শিশু বিশেষজ্ঞ দেখাবেন এবং পরামর্শে চলবেন।
মা-বাবার করনীয়ঃ
জ্বর হলে Renova/Reset/ Fast syp, Drop ও Suppository প্রয়োজন মত দেবেন।কাপড় পানিতে ভিজিয়ে গা মুছে দেবেন।
বেশী করে পানি বা তরল জাতীয় খাবার গুলো খাওয়াবেন যেন শরীরে প্লাটিলেট না কমে।
Aspirin Diclofenac বা Ibuprofen জাতীয় ঔষধ খাওয়াবেন না।

ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান
শিশু বিশেষজ্ঞ
রোগমুক্তি ক্লিনিক গোলকুঠি (সদর হাসপাতালের পশ্চিমে)দিনাজপুর

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন