গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র আলো প্রকল্পের হেকস্ ইপারের সাথে দিনাজপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

দিনাজপুর।।
দিনাজপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস কার্যালয়ে ১৮ অক্টোবর সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র এর আয়োজনে এবং হেকস্/ইপারের সহযোগিতায় আইনী সহায়তার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিস এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ), সহিদুর রহমান এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব রাখেন, মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী (নিউটন), প্রকল্প সমন্বয়কারী জিবিকে আলো প্রকল্প, মোঃ সোহেল মিয়া, সিনিয়র তথ্য অফিসার (অতিঃ দায়িত্ব), মোঃ আসাদুজ্জামান ওসি (তদন্ত), কোতয়ালী থানা, মোঃ ময়নুল ইসলাম, সহ-সমাজসেবা অফিসার, শহর সমাজসেবা কার্যালয়, মোঃ ফরিদুর রহমান (ডেপুটি জেল সুপার), রাবেয়া ফেরদৌস রুশি (এ্যাডভোকেট প্যানেল ল’ইয়ার), মোঃ ফিরোজ আহমেদ (এ্যাডভোকেসি অফিসার জিবিকে আলো প্রকল্প) ও সরলা মুর্মু। বক্তারা বলেন, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র ১৯৯৩ সালের ১ লা জানুয়ারি উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন প্রচেষ্টার সহযাত্রী হিসেবে পদযাত্রা শুরু করে। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্তি¡ক গোষ্ঠী এবং দলিত একটি উলে­খযোগ্য অংশ। বক্তারা বলেন, দলিত আদিবাসী নারীদের সমস্যা যেমন-ঘরোয়া নারীদের প্রতি সহিংসতা আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। তাদের আলাদাভাবে থাকা/সেপারেশনে থাকা এমন স্বামী-স্ত্রীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ফলে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের সম্ভাবনা বাড়ছে। মূলশ্রোতধারার মানুষ দ্বারা আদিবাসী নারী, যুবতী এবং কিশোরী ধর্ষিত হচ্ছে। দলিত ও আদিবাসী নারীরা ধষর্নের শিকার হলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তা প্রকাশ করে না। মাদক সেবনের কারণে স্বামী-স্ত্রীরদের মধ্যে ঝগড়া-কলহ ও দ্ব›দ্ব বেড়ে যাচ্ছে। সোসাল মিডিয়া বা স্মার্ট ফোনের অপব্যবহার করে দলিত ও আদিবাসী নারীদের ব্লাকমেইল করে বিভিন্ন গোপন ভিডিও ফাঁস করে দেওয়া এমনকি হুমকি প্রদান করার মত ঘটনা ঘটছে। মুল শ্রোতধারার মানুষ দ্বারা আদিবাসী নারী, যুবতী এবং কিশোরীরা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে। তাদের বিভিন্ন আয় সম্পর্কে ধারণা না থাকায় আইনী সহায়তা পারে না। ফলে কেইস পরিচালনা সম্পর্কে তাদের ধারণা না থাকায় আর্থিক সমস্যার কারণে অনেক নারীরা মামলা দায়ের করতে পিছপা হচ্ছে। দলিত ও আদিবাসী মানুষের ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা যেমন- ভূমি আইন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকা, ভূমি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে দূরত্ব, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্তি¡ক জাতিগোষ্ঠীর ভূমি হস্তান্তর ও বিক্রয় আইন না জানা, জমির মালিমানা স্বত্ব ভূমি সেবা বিষয়ক সরকারি কাঠামো ও পারিবারিক ভূমি মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিহা, জমির দলিল উদ্ধারের আইনী প্রক্রিয়া না জানা, জমির খারিজ না করার কারণে জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। মূল শ্রোতধারার মানুষ কর্তৃক বেআইনীভাবে আদিবাসীদের জমি দখল বা আইল কাটা, জমির দলিল ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র না থাকা, জমির রেকর্ড সম্পর্কে ধারণা না থাকা, খাস জমি ব্যবহারে বা প্রাপ্তিতে আইনী প্রক্রিয়া না জানা, জমি সংক্রান্ত মামলা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারের জন্য আর্থিক সংকুলান না থাকাসহ ভূমি মামলা ও মাদক মামলার সৃষ্টি হচ্ছে। বক্তারা আরো বলেন, এসব নানাবিধ সমস্যার কারণে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের আরো সচেতন হতে হবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদেরকে যোগাযোগ বাড়াতে এবং মাদক ভূমি মামলা, নারী নির্যাতন আইনী সহায়তার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে এসে সেবা নিতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন