ঢাকায় গার্মেন্টসকর্মী খুন ৫ বছরের শিশু আরিফা মায়ের সাথে আর ভাত খাওয়া হলো না

বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি.
মা ঢাকায় চাকুরী করে। মায়ের অসুস্থ্যতার কথা শুনে ৫ বছর বয়সী একমাত্র শিশুকন্যা আরিফা মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ে মায়ের জন্য দোয়া করেছে। মা যেন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে। মা বাড়ি ফিরলে মায়ের সাথে ভাত খাবে আরিফা। মেয়ের মৃত্যুর সংবাদে আহাজারি করছেন মা হালিমা, পাশে নিহত আয়শার শিশুকন্যা আরিফার এমন কথা শোনে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।
কিন্তু আরিফা জানে না, তার মা আর বেঁচে নেই। ভাত খেতেও বলবে না আর কোন দিন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গত শুক্রবার সকালে হামলার শিকার হয়ে বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরিফার মা গামেন্টস কর্মী আয়েশা সিদ্দিকা (২৬) মারা যায়। স্বজনরা আয়শার মৃত্যুর খবর শুনে শুক্রবার বিকেল থেকে এলাকায় শোকে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্বজনরা অপেক্ষায় ছিলেন কখন মৃতদেহ আসবে।
শানিবার রাতে এ্যাম্বুলেন্স আয়েশার মরদেহ বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের বানিয়াপাড়ায় গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসে স্বজনরা। রোববার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিহত আয়শার বাবা মালেক মাছুয়া (৫৫) বলেন, ‘মেয়ে ছুটিতে বাড়িতে আসার পর তাকে ঢাকায় যেতে বারণ করেছিলাম। কিন্তু মেয়ে শুনেনি। মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বৃষ্টির দিন সন্ধ্যায় ঢাকায় চলে যায় সে। মেয়েটা তাঁর কথা শুনে ঢাকায় না গেলে হয়তো তাকে আজ লাশ হতে হতো না। মেয়েটা বিরলে রুপালী বাংলা জুট মিলে কাজ করত। ঠিকমতো টাকা না পাওয়ায় অন্য বোনদের সাথে ঢাকায় সাইনেক্স গার্মেন্টস এ চাকরি করত।
নিহতের মা হালিমা বেগম (৫০) বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমার মেয়ে এলে তাঁকে দিনাজপুর মেডিক্যালে ভর্তি করাব। সে ভালো হয়ে যাবে। এর পরই মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
গত শনিবার আয়শার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তাঁর ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যা ব্রাক স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফার সাথে। সে বলে, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে মা আমাকে বলেছিল পাঁচ মাস পরে ঈদের সময়ে সে বাড়িতে আসবে। আমার জন্য সাইকেল ও ক্যানবেরি চকোলেটসহ অনেককিছুই নিয়ে আসবে। কিন্তু মা নাকি অসুস্থ্য এ জন্য এখনই বাড়ি ফিরবে। মা অসুস্থ, তার জন্য শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে দোয়া করেছি, মা সুস্থ হয়ে যাবে। মা অসুস্থ শুনে আমি কাল রাত (শুক্রবার) থেকে ভাত খাইনি। মা এলে একসাথে ভাত খাব।
আয়শা সিদ্দিকারা চার বোন ও এক ভাই। তাঁর দুই বোন খালেদা ও শিল্পী এবং দুই ভগ্নিপতি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। মেয়ে আরিফাকে নানা-নানির কাছে রেখে তিনি বোন-ভগ্নিপতিদের সঙ্গে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন আয়শা সিদ্দিকা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় শুক্রবার সকালে আয়শাকে কাঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন সেকুল মিয়া নামের এক ট্রাকচালক। এ সময় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে দেন। পুলিশ জানায়, সাবেক স্ত্রীকে হত্যা করতে গিয়ে ভুল করে গার্মেন্টসকর্মী আয়শাকে কুপিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন সেকুল।
বিরল থানার ওসি মো. ফখরুল ইসলাম নিহত আয়শা সিদ্দিকার পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, তিন বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তাঁর। সেই থেকে আয়শা বাবার বাড়ি বানিয়াপাড়ায় থাকতেন। এক বছর আগে তিনি ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন